ঢাকা শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

গাজিপুরের ভাওয়াল জমিদার বাড়ি ভ্রমন

ভাওয়ালের জমিদারি বিলুপ্ত হলেও রয়ে গেছে সেই জমিদারবাড়ীটি। গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র ভাওয়ালের সেই জমিদারের জমিদারি ঘুরে দেখতে গেলে পাবেন পুরনো স্মৃতির বেমিশাল স্বাদ।রাজা গাজীদের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত আজকের গাজীপুর জেলাই ছিল প্রাচীন ভাওয়াল নামে পরিচিত।একসময় এখানে রাজার পদচারণা এবং তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে ছিল গ্রামের পরতে পরতে। সময়ের স্রোতে কত কিছু বিলীন হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কোথাও কোথাও রয়ে গেছে ইতিহাস আর অতীতের চিহ্ন, যা দেখে ভালোলাগা বেড়ে যায়, বলে যায় অতীতের রাজ দরবারের গল্প কথা। ইচ্ছা হলে সময় করে এমনই এক স্থান গাজীপুরের ভাওয়াল রাজার রাজবাড়ী থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

গাজীপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী। প্রায় ৫ একর জায়গার ওপর রাজবাড়ীটি নির্মিত। এ রাজবাড়ীর পশ্চিম পাশে রয়েছে বিশাল একটি দীঘি এবং সামনে রয়েছে বিশাল সমতল মাঠ। রাজবাড়ীটির পুরো এলাকাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সীমানা প্রাচীরেও কারুকার্য খচিত, বেশ উঁচু। প্রধান ফটক থেকে প্রায় অর্ধবৃত্তাকারের দুটো পথের যে কোনো একটা ধরে অগ্রসর হলেই মূল রাজপ্রাসাদ।

রাজবাড়ীর প্রবেশমুখে প্রশস্ত বারান্দা, এরপর একটি হলঘর। ওপরে ওঠার জন্য আগে শাল কাঠের প্রশস্ত সিঁড়ি ছিল, যা এখন নষ্ট হয়ে গেছে। নাটমন্দির রয়েছে বাড়ির মধ্যখানে। এটি লম্বালম্বি বড় টিনের ঘর। টিনের ঘরের ঠিক মাঝখানে মঞ্চটির অবস্থান। এখানে বাইজিদের নাচ-গানের আয়োজন করা হতো। আবার এ ঘরেই সব ধরনের অনুষ্ঠান হতো। জমিদার শিকারে গেলে যদি কাউকে মনে ধরত হাতি পাঠাতেন তাকে উঠিয়ে আনার জন্য। পশ্চিমের দোতলা ভবনে তার জন্য ঘর বরাদ্দ করতেন। রাজবিলাস নামের একটি কামরা ছিল, যা জমিদারের মনোরঞ্জনের জন্য বরাদ্দ থাকত। এ ছাড়া রাজার বিশ্রামাগার হাওয়ামহলও ছিল একই ভবনের নিচতলায়। দক্ষিণ দিকের খিলানযুক্ত উন্মুক্ত কক্ষটি হচ্ছে ’পদ্মনাভি’। মাঝের বড় ঘরটির নাম ‘রানীমহল’। ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩৬০টি কক্ষের ইতিহাস এ জমিদারবাড়ীটির।

এ তো গেল জমিদারবাড়ীর ছোট্ট বৃত্তান্ত। ভাওয়ালের জমিদারবাড়ীর কথা এলে সেকালের শ্মশানের কথা তো ভোলার নয়। জমিদারবাড়ী থেকে মাত্র ১ কি. মি. উত্তরে চিলাই নদীর তীরে। এখানে পুরনো একটি শিব মন্দির আছে। একটি শিখর কাঠামোর সমাধি মন্দিরও আছে, ফুল-লতা-পাতায় অলঙ্কৃত এ ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর শ্মশানটি। কম বয়সী আরও তিনটি সমাধি ও মন্দির রয়েছে এখানে। রাজবাড়ী আর শ্মশান ঘাটের মাঝখানে আছে শালবন। শালবন থেকে খানিক এগোলে ‘রাজা অধর চন্দ্র স্কুল ও কলেজ’ দেখা যায়।

দেশের যে কোনো স্থান থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা হয়ে শিববাড়ী মোড়। ঢাকা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে জমিদারবাড়ী যেতে হয়। রাজবাড়ীতে ভ্রমণের জন্য নিজের কিংবা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ডান দিকে রাস্তাটি গেছে জয়দেবপুর সদর বরাবর। জয়দেবপুর সদর রেল ক্রসিং পার হয়ে সামান্য সামনে এগিয়ে গেলেই রানী বিলাসমণি স্কুল। এ স্কুলের ঠিক বিপরীত পাশেই ভাওয়াল রাজবাড়ীটি অবস্থিত। আর রাজবাড়ী থেকে ১ কি.মি. উত্তরে এগিয়ে গেলে মিলবে রাজবাড়ী শ্মশান।

ঢাকা থেকে দিনে গিয়ে দিনেই শেষ করা সম্ভব গাজীপুর ভ্রমণ। তাই এখানে অবস্থান না করলেও চলে। তারপরেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানের কিছু হোটেল রয়েছে।